আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

উলিপুরে হাইকোর্টের রায় মানছেন না মাদ্রাসা সুপার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি

নুরবক্ত আলী, উলিপুর।।
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ‘মধুপুর সরকার পাড়া হরিফিয়া দাখিল মাদরাসা’র সুপার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রায় অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক-কর্মচারিকে ৬০ দিনের বেশী সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রাখা যাবে না মর্মে হাইকোর্ট রায় দিলেও প্রতিষ্ঠানটির সুপার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তোয়াক্কা না করে এবতেদায়ী শাখার এক শিক্ষককে বছরের পর বছর সাময়িক বরখাস্ত করে রেখেছেন।
এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগী এবতেদায়ী শাখার প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।
জানাযায়, ২০১১ সালের ১৭ নভেম্বর সভায় অনুপুস্থিত, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাথে প্রত্যারনামুলক আচরণ করা, কমিটির কোন বৈধ আদেশ পালন না করে কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করেছেন উল্লেখ করে স্মারক বিহীন এবতেদায়ী শাখার প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়াকে সাময়িক বরখাস্তের এক অফিস আদেশ দেন তৎকালিন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ জয়নুল আবেদীন। সে সময় ম্যানেজিং কমিটির স্মারকবিহীন সাময়িক আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে কুড়িগ্রাম কোর্টে মামলা করেন শিক্ষক আব্দুল আজিজ মিয়া। মামলা চলমান অবস্থায় হাইকোর্ট ২০১৫ সালে ৩৬৫৭ নং রীটপিটিশনের আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (মাদরাসা সহ) কোনো শিক্ষক-কর্মচারিকে ৬০ দিনের বেশী সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রাখা যাবে না মর্মে রায় প্রদান করেন। অপরদিকে ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নং- ৫৭.২৫.০০০০.০০৪.০০১.১৭৪ এ একই নিয়ম উল্লেখ্য করে পরিপত্র জারি করে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর আমাকে হয়রাণীমূলক বিভিন্ন অভিযোগে এনে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। নোটিশের পেক্ষিতে তিনি জবাব দেন। কিন্তু নোটিশের জবাব পেয়েও সভায় অনুপুস্থিত, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাথে প্রত্যারনামুলক আচরণ করা, কমিটির কোন বৈধ আদেশ পালন না করে কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করেছেন উল্লেখ করে স্মারক বিহীন আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। তিনি আরো বলেন, ৬০ দিনের বেশী সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষক-কর্মচারি বেতন ও অন্যান্য সমুদয় ভাতাদি প্র্রাপ্য হওয়ার বিধান থাকলেও তাকে ভাতাদি থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন। বারবার কর্তপক্ষের কাছে আবেদন করেও সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার না করায় তিনি শিক্ষা মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন। বর্তমান সুপার আমার সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার ও বিলের জন্য মোটা অংকের টাকা নচেৎ সম্পূর্ণ বকেয়া বিল দাবি করে বলেন, টাকা ছাড়া কমিটি তোমার বিলে সই করবে না।
এ বিষয়ে সরকারী কৌশলী (এজিপি) এ্যাডভোকেট আব্দুল গফুর জানান, কোন বিষয়ে মামলা চলমান থাকাবস্থায় হাইকোট যদি একই মামলার উপর কোন আদেশ জারি করেন তাহলে পূর্বের মামলা বিলুপ্ত হয়ে যায়। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকের সাময়িক আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া আইন বহ্নিভূত। কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান যদি এ আদেশ অমান্য করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
সাময়িক বরখাস্ত বিষয়ে মাদরাসার সুপার মো. আহম্মেদ আলী জানান, আবেদনের পেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। এ ব্যাপারে শীঘ্রই ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাদের বলেন, এ বিষয়ে একটি আবেদন পাওয়া গেছে। আবেদনের পেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরও খবর.......

এ সপ্তাহের পত্রিকা

খবরটি বেশী পড়া হয়েছে

Don`t copy text!