আজ ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই আগস্ট, ২০২০ ইং

করোনাকাল

করোনাকাল ।। মাইদুল ইসলাম

কোন পন্য ভালো কিংবা খারাপ হলেও প্রথমে গ্রাহক বেশি আকৃষ্ট হয় কারন বিজ্ঞাপন দাতার বিজ্ঞাপনের চাকচিক্যে ক্রেতা ক্ষণিক হলেও বিজ্ঞাপনের ঘোরে থাকে। যেকোন ট্যাগ কোশ্চেন এর উত্তর প্রথমে সত্যটা আসে। পরে আমরা মিথ্যাটা গুছিয়ে বলবার চেষ্টা করি। শুরুতে ত্রুটি থাকলেও সেটিই মূলত সঠিক হিসেবে জনতা গ্রহন করে সেটাকেই সত্য বলে মনে স্থাপিত করে। দেশে যখন করোনা ভাইরাসের শুরু হলো তখন কড়া নির্দেশনা এবং জনগন মন থেকেই তা মেনে নিয়েছিলো সিরাজগঞ্জে এক কমিশনারের লাঠিচার্জও দেখলাম, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তির বিধান দেখলাম, কুড়িগ্রামে বাইক নিয়ে অযাথা বাইরে ঘোরাফেরা করলে তাকে পুলিশের সাথে ডিউটি করতে হবে, নানান জনবান্ধব উদ্যোগ। অনেকে করোনা সম্পর্কে স্টাডি শুরু করলো, গণস্বাস্থ্য টেস্ট কীট আবিস্কার করলো, এগুলো সব শুরুতেই হলো। শুরুতে টেস্ট কীট ব্যাবহারের অনুমোদন পেলো না, কিন্তু গণস্বাস্থ্য ইতোমধ্যে জনগনের আস্থা অর্জন করে ফেলেছিলো, ফেইসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গণস্বাস্থ্যের পক্ষের সংবাদ বেশি প্রচার হলো। মানুষ সচেতন হচ্ছিলো। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো মানুষকে সচেতন করছিলো, স্যানিটাইজার, মাস্ক ও সাবান সহ খাদ্য সামগ্রী বিতরন করছিলো, যে যার যার অবস্থান থেকে কর্মহীন মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিলো। বাইরে গেলে মাস্ক ব্যাবহার করতো, কেউ কেউ বাসায় থাকলেও মাস্ক ব্যাবহার করেছিলো। বাইরে থেকে কেউ আসলে গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে তাকে বাইরে না যাওয়ার জন্য বোঝাতো। করোনা ভাইরাস এখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু করেছে, ঢাকা সারা দেশের করোনা ভাইরাসের হটস্পট জোন হলেও আমাদের উত্তরবঙ্গের হটস্পট জোন রংপুর। শুরুর দিকে গাইবান্ধা করোনা ভাইরাসের ভয়ঙ্কর রুপ নিলেও এখন কুড়িগ্রাম ও রংপুর সে জেলাকে পিছে ফেলে আরোও ভয়ঙ্কর রুপ ধারন করছে, রংপুরে গড়ে প্রতিদিন ২০ জনের উপরে আক্রান্ত হচ্ছে। সেই সাথে যত দিন যাচ্ছে তত বেশি মানুষ অসচেতন হচ্ছে, এই অসচেতনকে অসচেতন বলা যায় না এখান একটি লজিক আছে। লজিকটা হলো; দেশে যখন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলো আক্রান্তরা এতো ভয় পেলো যে অনেকেই হার্ট এ্যাটার্কে মারা যাচ্ছিলো। এতে জনসচেতনতা শুরু হলো। জনসচেতনতায় বিভিন্ন ম্যাসেজ দেয়া হলো যেখানে বলা হলো, ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এটা ম্যাডিটেশনেই সেরে যায়, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, এটি কঠিন কোন ভাইরাস নয় ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ম্যাসেজগুলো দেয়ার কারন হলো যাতে জনগন বেশি ভয় না পেয়ে হার্ট এ্যাটার্কে না মারা যায়। কিন্তু আমরা জনগন এতো বেশি সচেতন হয়ে গেছি যে হাট বাজার, ঘোরাফেরা, মাঠে ক্রিকেট খেলাতেও কোন ভয় পাচ্ছি না, সেই সাথে অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনসচেতনতামূলক কোন কাজ ছাড়া তেমন কিছু করছেন না। বিভিন্ন মুসলিম কান্ট্রিগুলো ঈদকে সামনে রেখে যেখানে কারফিউ জারি করছে সেখানে আমরা দিন দিন ওপেন হচ্ছি। অর্থনীতিকে ঠিক রাখতে আমাদের ব্যাবসা বানিজ্য জরুরী হয়ে পরেছে, জমি থেকে ধান না কাটলে আমরা খাদ্যশস্য পাবো না এজন্য কাজ করতে হবে কিন্তু সেটা হতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যা আমাদের দেশে সম্ভব নয়। আমরা আইন মেনে চলতে অভ্যস্থ নই, আমাদের খেটে খাওয়া মানুষ ক্ষুধার জন্য আইন ভেঙ্গে কাজে যাবেই হোক সেটা জীবনের ঝঁকি নিয়েই। অসহায় খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য সরকারী ও বেসরকারী অনেক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আজ পর্যন্ত ২৩ হাজার আক্রান্ত ছাড়িয়ে গেলো। এখন রেগুলার ১০/১৫/২০ জন করে মারা যাচ্ছে ঠিক এই সময়ে ঈদকে সামনে রেখে সীমিত আকারে মার্কেট খুলে দেয়া হলো, শপিং করা যাবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে, ডিসট্যান্স ম্যাইনট্যান্যান্স করতে হবে, নির্দিষ্ট চিহ্নের ভেতর থেকেই শপিং করতে হবে এরকম অনেক অনেক নির্দেশনা। আমরা জনগন আইন মানতে অভ্যস্থ্য নই। অনেককেই দেখেছি নিজ উপজেলা ছেড়ে জেলা বা বিভাগ পর্যায়ে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শপিং করে নিচ্ছে। ফেইসবুক অনলাইন পোর্টাল খুললেই গরীব দুস্থ্যদের খাদ্যাভাবের খবর পাওয়া যায় কিন্তু মার্কেটে গেলে ভিন্ন চিত্র, তাহলে কী এই ফেইসবুক, নিউজ পোর্টালগুলো ভুয়া নিউজ করে? না, করে না তারাও সঠিক নিউজ করে। যারা বিলাসী তারা মৃত্যুকে উপহাস করেও বিলাসীতা করে। এই বিলাসীদের বিলাস একটু কম করলে তার এলাকার দরিদ্র মানুষগুলোকে খাদ্য সহায়তা অনায়াসেই দেয়া যায়। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রশাসনের নির্দেশে একটা কাজ করতে পারে; এক. যারা শপিং করতে আসবে তাদের শপিং করার অর্থ বাজেয়াপ্ত করে ফান্ড গঠন করবে এবং অর্থ বাজেয়াপ্ত ব্যাক্তি কতৃক অপেক্ষাকৃত গরীব, দুস্থ্য ব্যাক্তিদের নামের তালিকা প্রস্তুত করবে। দুই. স্থানীয়ভাবে স্বাবলম্বীদের তালিকা প্রস্তুত করে আয়ের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট আনুপাতিক হারে অর্থ সংগ্রহ করে উক্ত ব্যাক্তি কতৃক তালিকা প্রস্তুত করে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা। এই দুই প্রক্রিয়ায় বিতরনের জন্য স্বেচ্ছাসেক দ্বারা উক্ত খাদ্য সহায়তা প্রদান করা। এখানে একদিকে যেমন মার্কেট বা শপিং মলে জনসমাগম রোধ হবে অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রোধ হবে। এতে কর্মহীন মানুষেরা খাদ্য পাবে এবং করোনার ছড়াবেনা। ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হতে করোনা মুক্ত হতে গেলে একটু কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুরুতে যেমন পদক্ষেপ ছিলো তখন থেকেই পরবর্তী পদক্ষেপে আগালে আমরা করোনা থেকে মুক্ত হবো।
মাইদুল ইসলাম
স্বেচ্ছাসেবক ও রেডিও কর্মী।
ইমেইলঃ maydul86@yahoo.com

One response to “করোনাকাল”

  1. Md Maydul Islam says:

    লেখাটি প্রকাশ করায় ভাওয়াইয়া এক্সপ্রেসকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরও খবর.......

এ সপ্তাহের পত্রিকা

খবরটি বেশী পড়া হয়েছে

Don`t copy text!