আজ ১১ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ ইং

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বৈঠক বুধবার

ভাপ্রেস প্রতিবেদক, ঢাকা ।।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্তির বিষয়ে বুধবার (১০ জানুয়ারি) বৈঠকে বসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২)জাবেদ আহমেদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এমপিওর দাবিতে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে দিবারাত্রি অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। এরপর গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে টানা টানা ছয়দিনের অনশন করেন তারা। গত ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর  আমরণ অনশন কর্মূসচি স্থগিত করেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। ওইদিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: সোহরাব হোসাইন প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌছে দেন শিক্ষকদের কাছে।

অনশনরত শিক্ষকদের অনশন ভঙ্গ করার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন।  প্রধানমন্ত্রী এমপিওভুক্তির কাজ শুরু করতে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ  দিয়েছেন এবং শিক্ষামন্ত্রীও এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী অনুরোধে অনশন ভেঙ্গে শিক্ষকরা যাঁর বাড়ী ফিরে যান এবং শ্রেণিকক্ষে ফেরেন।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি মঙ্গলবার বেলা এগারোটা বিশ মিনিটে অনশনরত শিক্ষকদের মাঝে উপস্থিত হয়ে নীতিমালার ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীর বরাত দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজ বিদেশ যাওয়ার আগে অর্থমন্ত্রী তাকে (শিক্ষামন্ত্রীকে) বলে গেছেন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে, শেষ হলেই এমপিওভুক্তির উদোগ নেয়া হবে। এটা আমাদের বিজয়’। এসময় শিক্ষকেরা না না বলে মন্ত্রীর আশ্বাস নাকচ করে দেন। অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

অনশনরত শিক্ষকরা সাফ জানিয়ে দেন এমপিওভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে ঘোষণা শুনতে চান  তারা। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কথায় আশ্বাসে তাদের বিশ্বাস নেই। ২০১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে নীতিমালার কথা শুনে আসছেন। মন্ত্রীর বিভ্রান্তকর তথ্যে ও আশ্বাসে আর বিশ্বাস করেন না মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকেরা। তাই তারা আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যান।

প্রসঙ্গত, সরকারি সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষরা এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রথম আন্দোলন শুরু করেন ২০১৩ সালে। ওই বছরের ১০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশ পিপার স্প্রে ব্যবহার করে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর একই বছরের ১৫ জানুয়ারি ন্যাম ভবনের সামনে অনশন কর্মসূচি করতে গেলে মানিক মিয়া এভিনিউর পশ্চিম পাশে পুলিশ বাধা দেয়। সেই বাধা থেকে শুরু হয় হাতাহাতি। একপর্যায়ে পিছু হটেন শিক্ষকরা। সোবহানবাগের প্রিন্স প্লাজার সামনে অবস্থান করতে চাইলে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এরপর তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এসে অবস্থান করে। শিক্ষামন্ত্রী এই ঘটনার পর শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ৩ মাসের মধ্যে এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন।এই আশ্বাসে পেরিয়ে যায় দুই বছর।

এরপর ২০১৫ সালের অক্টোবরে প্রথমে শহীদ মিনারে সমাবেশ এবং পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন পালন করে ‘নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন’। সমাবেশ থেকে বলা হয়, সুস্পষ্ট ঘোষণা না এলে এই আন্দোলন চলবে। সরকার আবারও এমপিওভুক্তির আশ্বাস দেয়। ওই আশ্বাসের পর কেটে যায় একবছর। এরপর ২০১৬ সালে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় আবার রাজপথে নামেন শিক্ষকরা। ওই সময় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অন্তর্ভুক্তি হওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার। ওই আশ্বাসের পর শিক্ষকরা ২০১৭ সালের জানুয়ারি আবার অবস্থান নেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। প্রায় ২৮ দিন অবস্থান করার পর শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে তারা ফিরে যান বিদ্যালয়ে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরেও এমপিও প্রসঙ্গ না আসার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষক সংগঠনের নেতারা।

One response to “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বৈঠক বুধবার”

  1. anwarict45 says:

    শিক্ষক রা শিক্ষা বান্ধব মা হাসিনা র কাছে জাতিয়করন আশা করে।

Leave a Reply

     এ জাতীয় আরও খবর.......

খবরটি বেশী পড়া হয়েছে

Don`t copy text!