আজ ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে অক্টোবর, ২০২১ ইং

প্রসংগত: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ

বিশ্বজিৎ রায়।।

শুরু হয়েছে নুতন বছর। হাটি হাটি পা পা করে জানুয়ারির শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। বই উৎসব চলেছে ধুমধাম করে।

 এ শিক্ষাবর্ষে ৩৫ কোটি৪২ লক্ষ ৯০ হাজার ১৬২ টি নতুন বই বিতরণ হয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। নুতন আশা উদ্দীপনা নিয়ে শুরু হলো ২০১৮। নতুন বছরে সবার  নুতন নুতন প্রত্যাশা থাকবে। নুতন নুতন আশার সঞ্চার হবে প্রত্যেকের হৃদয়ে। কিন্তু এখানেই  নাকাল বেসরকারি  শিক্ষকরা।   তাদের প্রত্যাশা পূরণের জায়গাটুকু ক্ষত বিক্ষত। ২০১৫ বেতন গেজেট  প্রকাশের পর থেকেই তাদের প্রত্যাশার সমান্যতম জায়গায় টুকুতে হোছট লেগেছে। দুটি বছর ধরে  তাদের  দাবীর কথা বলে আসছে। কখনও লিখিত আবার কখন মৌখিক কখনও প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে। আবার কখনও আন্দোলের মাধ্যমে।

কিন্তু আশার বিন্দুতে কোন আশার  সঞ্চার হয়নাই। এ দেশে বেসরকারি  শিক্ষকদের বঞ্চনার ইতিহাস দীর্ঘ দিনের। সেই বৃটিশ আমল থেকে  শিক্ষকদের বঞ্চনার বীজ রোপিত হচ্ছে। একাবিংশ শতাব্দী তে ও তা পরিবর্তন হলো না।২০১৫ খ্রীস্টাব্দে   ড. ফরাসউদ্দীন সাহেবের কমিশন একটি বেতন  গেজেট প্রকাশ করলে বেসরকারি  শিক্ষকরা এ কমিশনের দেওয়া সকল সুযোগ  সুবিধা পাবে এমনটি আশা করেছিল।  শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের মাননীয়  মন্ত্রী মহোদয় বেসরকারি শিক্ষকদের স্কেল পাওয়া নিয়ে অচলাবস্থা  চলছিল তখন তিনি    বলেছিলেন ” বেসরকারি শিক্ষকরা স্কেলে প্রদেয় সুযোগ সুবিধা পাবে”। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে।শিক্ষা ক্ষেত্রে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বছরের প্রথমে কোটি কোটি বই পৌছিয়ে যাচ্ছে  শিক্ষার্থীর কাছে। এমপিও ভূক্তিতেও এসেছে ডিজিটালাইজড ব্যবস্থা ।

প্রতিষ্ঠানে বসে এমপিও  ই – আবেদন ফরম পূরণ করলে  এমপিও ভূক্ত হওয়া যাচ্ছে।  শিক্ষক নিয়োগ এসেছে পরিবর্তন। বিসিএস এর আদলে তিনটি স্তর ফেস করে নিয়োগ পেতে হচ্ছে।  ডি আই এ সনাতনী  পরিদর্শন পদ্ধতি বাদ দিয়ে চালু করতে যাচ্ছে পিয়ার ইন্সপেকশন। এ পদ্ধতিতে  প্রতিষ্ঠান তার ডাটা তার নিজস্ব  ওয়েভ পেজে দিয়ে রাখবে।  ডি আই এ  সেটি যাচাই বাছাই করবে। উপবৃত্তি ক্ষেত্রে এসেছে পরিবর্তন। এখন ছাত্রীদের পাশাপাশি ছেলেরাও পাচ্ছে।

৬০ হাজার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বৃত্তি পাওয়াসহ ব্রেইলি বুক পাচ্ছে।  ২০ হাজার কম্পিউটার ল্যাব ও উপজেলা আইসিটি রিসোর্স  সেন্টার  স্থাপিত হয়েছে। ২৪ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু হয়েছে মাল্টিমিডিয়া  ক্লাশ। সরকার ইতোমধ্যে  সকল প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার, প্রজেক্টর,মডেম ও ডিসপ্লে স্ক্রিন বিতরণ করেছে।  শিক্ষকরা সেই সনাতনী  পদ্ধতি বাদ দিয়ে আংশগ্রহণ পদ্ধতিতে ক্লাশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকশিত করার নিরন্তর  প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পরীক্ষা পদ্ধতিতে এসেছে  পরিবর্তন। পরীক্ষা  পদ্ধতির পরিরর্তনে শিক্ষার হারেও এসেছে পরিবর্তন।  কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের ফলে দেশে বেকারত্বের হার কমেছে।  অর্থনীতি হচ্ছে সমৃদ্ধি । বিদ্যালয়  গুলোতে নির্মিত হচ্ছে অাধুনিক ভবন। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করছে। সৃজনশীল মেধা খুঁজে বের করার জন্য চালু হয়েছে “সৃজনশীল  মেধা অন্বেষণ “প্রতিযোগিতা। শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র উন্নয়নে চালু হয়েছে  “সততা সংঘ”। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করার জন্য চালু হয়েছে “স্টুউডেন্ট কেবিনেট”  নির্বাচন ।

শিক্ষার্থীরা তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে তাদের নেতা নির্বাচন করবে।শারীরিক  ও মানষিক শাস্তি বন্ধের ফলে শিশুদের শারীরিক  ও মানষিক বিকাশের অপরাপর সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। চালু হয়েছে কিশোরী  ক্লাব। মানসম্মত  শিক্ষা নিশ্চত কল্পে শিক্ষকরা  ইন- সার্ভিস প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে।২০১০ সালে সার্বজনীন  ও যুগোপযোগী একটি শিক্ষানীতি পেয়েছি।  তারই বাস্তবতায় রচিত হয়েছে শিক্ষাক্রম ২০১২।সেসিপ কিছু জনবল নিয়োগ দিয়ে  মাধ্যমিক খাতকে প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে রেখে মাধ্যমিক খাত উন্নয়নে নিরন্তর  প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার এই ক্রমোন্নতিতে বেসরকারি  শিক্ষকরা যে একটা বড় অবদান রাখছে তা কোনক্রমে অস্বীকার করা যাবে না।

৩০ নভেম্বর ২০১৫ খ্রীস্টাব্দে সাবেক শিক্ষাসচিব এনআই খান মহোদয়  বিদায় নেওয়ার সময়  মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী কে বেসরকারি  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে ১০০০ কোটি টাকা প্রয়োজন  এর  কথা বলেছিলেন। স্কুল কলেজ জাতীয়করণ লিয়াজে কমিটির মহাসম্মেলনে মাননীয়  মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী  নারায়ণ  চন্দ্র  চন্দ বলেছিলন” জাতীয়করণ শীঘ্রই”। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী  রাশেদ খান মেনন ও তালা  উপজেলার এক সমাবেশে “বেসরকারি  প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিষয়ে মত প্রকাশ করেছিলেন “।

সর্বশেষ  মাননীয়  বানিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহম্মেদ বলেছেন   ” জাতীয় করণ হতেই হবে”।আমরা বেসরকারি  শিক্ষরা আশায় বুক বেঁধে আছি। জাতিরজনক ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয়করণ  করে  শিক্ষার ভিত  মজবুত করেছিলেন। মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী আপনি ২৬  হাজার রেজিষ্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা সদরে ১ টি স্কুল ১  টি কলেজ জাতীয়করণ  করে দৃষ্টান্ত  স্থাপন করেছেন।আপনি জাতিরজনকের সুযোগ্য উত্তরসূরি।আপনি আজ ১৭ জানু২০১৮ খ্রী: মহান জাতীয়  সংসদে সুর্নিদৃষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে জাতীয়করণ ও এমপিও ভূক্তির কথা বলেছেন। আপনিই পারবেন সকল বৈষম্য দূরকরে বেসরকারি  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ  করতে।  যেমনি ষাড়ে ছয় লাখ রেহিঙ্গা অশ্রয় দিয়ে বিপন্ন  মানবতা রক্ষা করেছেন।

যেমনটি করেছেন বিশ্ব ব্যাংকে অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে,নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতে।  তেমনি বেসরকারি  শিক্ষক সমাজ উন্মুখ  হয়ে তাকিয়ে  আছে  আপনার দিকে কবে, কখন, কোন সময়, কোন মহেন্দ্র ক্ষনে  জাতীয়করণের ঘোষনা আসে  আপনার মুখ দিয়ে।

Leave a Reply

     এ জাতীয় আরও খবর.......

খবরটি বেশী পড়া হয়েছে

Don`t copy text!