আজ ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ইং

বগুড়ায় মুক্তিপণ না পেয়ে অপহৃত শিশুকে হত্যা

ভাপ্রেস প্রতিবেদক, বগুড়া।।

বগুড়ায় মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করা ছয় বছরের শিশু হানজেলাকে অবশেষে হত্যা করেছে অপহরণকারীরা। হানজেলার বাবা-মায়ের অভিযোগ, একমাত্র সন্তানকে উদ্ধারে তারা পুলিশের কাছে কোনো সহযোগিতা পাননি।

মুক্তিপণ না পেয়ে প্রায় দেড় মাস পর নিহত শিশুর বাড়ির কাছের পুকুরে মরদেহ ফেলে ফোনে সন্ধান দেয় অপহরণকারীরা। ফোন পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পরিবার।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের নিশুপাড়া গ্রামে। আর অপহৃত হানজেলা (৬) নিশুপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী পিন্টু প্রামাণিকের ছেলে।

রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও নিশুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়া জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে শিশু হানজেলা অপহৃত হয়। ঘটনার দিনই এ বিষয়ে গাবতলী থানায় জিডি করা হয়। ছেলে অপহরণের খবর পেয়ে দু’দিন পর তার বাবা পিন্টু প্রামাণিক মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন। এদিকে থানায় জিডি করার পাশাপাশি ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় একটি পত্রিকায়ও ছেলের সন্ধান চেয়ে নিখোঁজ বিজ্ঞাপনও দেন ওই শিশুর মা তাছলিমা বেগম।

তাছলিমা বেগম জানান, অপহরণকারীরা তার মোবাইলে ফোন করে প্রথমে পাঁচ লাখ ও পরে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল। টাকা না দিলে ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। শিশুটির বাবা-মা অপহরণকারীর মোবাইল নম্বর নিয়ে গাবতলী থানা পুলিশের কাছে দেন। কিন্তু গত এক মাস ১০ দিনেও শিশুটি উদ্ধার কিংবা অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি গাবতলী মডেল থানা পুলিশ বলে তাদের অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যে নম্বর থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল, সেই একই নম্বর থেকে শিশুটির মাকে ফোন করে টাকা না পাওয়ায় তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সেই সঙ্গে তাদের বাড়ির পাশের পুকুরে মরদেহ আছে বলেও জানায় অপহরণকারীরা। পরে পুকুর থেকে পলিথিনে মোড়ানো এবং ইট বেঁধে পানিতে ডুবে রাখা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির বাবা পিন্টু প্রামাণিক ও মা তাছলিমার দাবি, পুলিশের অবহেলা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে তার ছেলেকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

Leave a Reply

     এ জাতীয় আরও খবর.......

খবরটি বেশী পড়া হয়েছে

Don`t copy text!