আজ ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই মার্চ, ২০২১ ইং

উলিপুরে পিআইওর যোগসাজসে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা হরিলুট

মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম।।
সরকার উন্নয়নের জন্য প্রকল্প বরাদ্ধ দিয়েছে। কাগজ-কলমে সবই ঠিক আছে। সময়মত প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করাও শেষ। কিন্তু ওই প্রকল্পের কোন কাজ বাস্তবে হয়নি। গ্রামীণ অবকাঠামোর সংস্কারের নামে মসজিদ মাদ্রাসা আর রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পের সংশ্লিষ্ঠ জায়গা উন্নয়নের কোন ছোয়া লাগেনি। এমনকী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জানেনও না উন্নয়ন কাজের খবর। অথচ ওই নামে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করে পকেটস্থ করেছেন খোদ উলিপুর পিআইও কর্মকর্তা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিরা। প্রকল্পের নথিপত্র খতিয়ে সরেজমিনে গেলে এমনই অভিযোগ পাওয়া যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির নামে বরাদ্দের টাকা হরিলুট হচ্ছে। অধিকাংশ এলাকায় কাজ না করেই কাগজ-কলমে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে জুনের মধ্যেই বিল উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে কিছু জনপ্রতিনিধি ও পিআইওর বিরুদ্ধে। জেলার তিস্তা ও নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় উলিপুর উপজেলায় ১টি পৌর সভা ও ১৩ ইউনিয়ন।এ উপজেলায় সরকারিভাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে টিআর-২৬টি প্রকল্পে ৩৫ লাখ ২৫ হাজার ৬শত ৩২ টাকা, কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ৩০টি প্রকল্পে মোট ২৯৪ মে. টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরেজমিন গিয়ে খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, তবকপুর ইউনিয়নের সাদুল্লা ফকির পাড়া নুরানীও হাফেজীয়া মাদ্রাসার গৃহ সংস্কারের জন্য ১লাখ ৫০ হাজার বরাদ্ধ দেওয়া হয়। কাগজ কলমে কাজ দেখিয়ে বিল উত্তলোন করা হয়েছে। কিন্তু বিধিবাম কাজ এবং টাকা সর্ম্পকে কোন খবরই জানেন না ওই মাদ্রাসার কমিটি কিংবা শিক্ষকরা। ওই মাদ্রাসার সভপতি জয়নুল ইসলাম(৫৫) জানান, মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য আমরা কোন বরাদ্দ পাইনি। বরাদ্দের টাকা যদি পাইতাম তাহলে ছাত্রদের জন্য ঘরও টয়লেট তৈরি করা যেত। কারন,ঘর ও টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় ছাত্রও শিক্ষকরা চরম দুর্ভোগে আছে। উমানন্দ ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাটি ভরাট ও উমানন্দ মধ্যবাদশার বাড়ির সামন হয়ে হেড়িংবন্ডের মাথা থেকে বালাবাড়ী ব্র্যাক মোড় পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের জন্য ৮ দশমিক মে:টন চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও তা কাজ হয়নি। উমানন্দ ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মার্শিয়া খাতুনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার স্কুলের মাট ভরাট হয়নি। আর প্রকল্পের এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। তবকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ হোসেন মুকুলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল রাস্তাটি দৃষ্টি নন্দন করার। কিন্তু তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে হলে ওই রাস্তার জন্য কোন কাজ করতে পারেনি।ওই রাস্তাটি শুধু নামে মাত্র। বাস্তবচিত্র হচ্ছে রাস্তাটি ব্যবহারে অনুপযোগি। সামান্য বৃষ্টি এলেই ডুবে যায়। কাদার কারনে চলাচল করতে পারেন না এলাকবাসী। আর এই ইউপি চেয়ারম্যান তার কুড়িগ্রাম শহরের বাড়িতে থাকেন। এলাকায় থাকেন না। ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান হওয়ায় এলাকাবাসীর দূর্ভোগ কিংবা জনগুরুত্বর্পুন কোন দাবি তিনি আমলে নেন না বলে জানান এলাকাবাসি।
এবিষয়ে জানতে তবকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ হোসেন মুকুলের ফোনে কয়েকবার ফোন দেওয়া হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে, ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হবি বলেন, এই রাস্তার উন্নয়নের টাকায় কাজ হয়েছে কি না সেটা আমি জানি না। চেয়ারম্যানই সঠিকভাবে বলতে পারবে।
একই ইউনিয়নের বড়ুয়া তবকপুর জামে মসজিদের ওযু খানা নির্মানের জন্য ৬২ হাজার ৫শত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কোন কাজ হয়নি বলে জানান কমিটির সদস্যও গ্রামবাসী।
অন্যদিকে, ধামশ্রেনী ইউনিয়নের চৌমহনী চক বা হাটসেটটির বাজারের ঘর সংস্কারের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.সিরাজুদ্দৌলার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই বাজারের ঘর সংস্কারের কোন বরাদ্দ নেই। কিন্তু প্রকল্পের তালিকায় ওই কর্মকর্তার স্বাক্ষরে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে, কাজ না হলে প্রকল্পের বিল উত্তলোন করা হয়েছে। ওই প্রকল্প সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, আমি শুধু ১ম কিস্তি ৫৫ হাজার টাকা পেয়েছি। আর পাইনি। তবে ধামশ্রেনী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেছে ৪০ হাজার টাকা পাবি না পিআইওকে ঘুষ দিতে হবে। বাকি টাকা তুই পরে পাবি আমি অতিশীগ্রই কাজ শুরু করবো। এ বিষয়ে জানতে ধামশ্রেনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাকিবুল সরদারকে তার ব্যক্তিগত ফোন নম্বরে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এবিষয়ে জানতে উলিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সিরাজুদ্দৌলাকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি । তবে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর-এ জান্নাত রুমি বলেন, আমি আসার আগে অর্থ বছরের কাজ শেষ হয়েছে। তবুও আমি প্রকল্প গুলো ঘুরে দেখে অনিয়ম পেলে তার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেব ।
এ ব্যাপারে জেলা দুর্যোগও ত্রাণ শাখার কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকারের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান,২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের কাজ শেষ হয়েছে। তবে প্রকল্পের কাজে কোন অনিয়ম-দুনীতি হয়েছে কি না জানিনা? এরপরেই অন্যকোন প্রশ্নের জবাব না দিয়েই দ্রুত ফোন কেটে দেন।

Leave a Reply

     এ জাতীয় আরও খবর.......

খবরটি বেশী পড়া হয়েছে

Don`t copy text!